মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক

 

বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহমেদ

তাজ উদ্দিন আহমেদ ১৯২৫ খ্রিঃ ২৩ জুলাই গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৌলভী মোহাম্মদ ইয়াছিন খান মাতা -মেহেরুন নেছা খানম । তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ  ও মেধা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব । তিনি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম রুপকার এবং মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিচালক ( বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে) ছিলেন। ১৯৭১ খ্রিঃ মুক্তিযোদ্ধকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ০৩ নভেম্বর ১৯৭৫ খ্রিঃ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক অবস্থায় নিষ্ঠুরভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়।

 

 

জনাব মোঃ সামসুল হক

জনাব মোঃ সামসুল হক ১৯২৭ সালের ১লা মার্চ গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন ঠেংঙ্গারবান্দ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ধনাঢ্য মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ ডিগ্রী লাভ করেন এবং ১৯৫৩ সালে আইন শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ভাষা আন্দোলন ও ৬ দফা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় তাকে বিভিন্ন সময় কারা ভোগ করতে হয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে ১৯৭১ সালের ১৯শে মার্চ জয়দেবপুর ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা কর্তৃক বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদেরকে ষড়যন্ত্রমূলক উপায়ে নিরস্ত্রীকরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন এবং সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। জনাব মোঃ সামসুল হক এদেশের একজন প্রবীনতম সমবায়ী। তিনি ঢাকা কেন্দ্রিয় সমবায় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদে, ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদে এবং ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। । তিনি ১৯৮৪ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বিদেশে বাংলাদেশ সরকারের রাষ্টদূত এর দয়িত্ব পালন করেন।

 

ময়েজ উদ্দিন এ্যাডভোকেট

১৯৩৩ সালে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলাধীন বড়হরা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি গাজীপুরের অন্যতম অকুতোভয় রাজনৈতিক নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রীয় সংগঠক ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধের সময় প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের সময় তাঁর মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তা কাটিয়ে তুলতে সক্ষম হন।

 

 

আফজাল মিয়া বীর উত্তম

জন্মঃ গাজীপুর সদরের ভাড়ারুল গ্রামে ১ জুলাই ১৯৩৯ খ্রিঃ। তিনি ১৯7১ যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে এপ্রিল মাসে পালিয়ে ভারত গমন এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারত সরকারের যুদ্ধ জাহাজ ‌‍‌‌‌‌‌‌‌‌পলাশে সরাসরি যোগ দিয়ে সমুদ্রে ও বিভিন্ন সেক্টরে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ করেন। স্বধীনতার তিন দিন পূর্বে তিনি ১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ সনে রুপসা নদী বেয়ে যুদ্ধ জাহাজ ‌পলাশ নিয়ে খুলনা শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। সকাল ৮ ঘটিকার সময় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর এক বহর বিমান জাহাজের উপর বোমা বর্ষণ করে। জাহাজটি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। বহু সেনা মারা যায়। তিনিও দুই দিন নদীতে ভাসতে থাকেন। পরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় থাককালে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে ভারতের একটি হেলিকপ্টার এই মহান বীরকে উদ্ধার করে কলিকাতায় নিয়ে যায়। কলিকাতায় দীর্ঘ চার মাস চিকিৎসার পর সামান্য সুস্থ হন। বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি গাজীপুর জেলার একমাত্র বীর উত্তম বীর মুক্তিযোদ্ধা।

 

ভবানী ভট্টাচার্য

স্বাধীনতা সংগ্রামে চরমপন্থী আন্দোলনের অকুতোভয় তরুণ সৈনিক ভবানী ভট্টাচার্য গাজীপুর জেলায় জয়দেবপুরে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম- বসন্ত কুমার ভট্টাচার্য । তিনি ছিলেন রানী বিলাস মণি দেবীর ভ্রাতুষ্পুত্র । ছাত্রাবস্থায় তিনি গোপনে যুগান্তর পার্টিতে যোগ দেন । ১৯৩৪ সালে ৮ মে তিনি দাজিলিং এ ঘোড়দৌড় মাঠে বাংলার বড় লাট এন্ডারসনকে অব্যর্থ গুলি করেন।

শহীদ হুরমত আলী

জন্ম ১৯৩৯ সনে গাজীপুর জেলার ভোগড়া গ্রামে । পিতা-মৃত ছাবেদ উল্লাহ। ১৯শে মার্চ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশগ্রহণ ও শহীদ হন। ১৯ শে মার্চ পাঞ্জাবী ব্রিগেডিয়ার জাহানজের আরবারের নেতৃত্বে ১৮ পাঞ্জাবী রেজিমেন্টের সৈন্যরা জয়দেবপুর রাজবাড়ীতে বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করতে এসে প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। ঢাকা ফেরার পথে জয়দেবপুর রেলক্রসিং এ মালগাড়ির ওয়াগন ও রাস্তার ইট, গাছপালা ফেলে অনেকগুলো ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। পাঞ্জাবী সৈন্যরা এখানে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ এবং রাস্তার পাশের বাড়িঘরের লোকদের উপর নির্যাতন শুরু করলে জয়দেবপুর চৌরাস্তার আশে পাশের সংগ্রামী জনতাকে নিয়ে সেই প্রখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড় হুরমত আলী সর্বাঙ্গে পাঞ্জাবি সৈন্যদের অবরোধে শরীক হন। পাঞ্জাবী সৈন্যদের প্রবল নির্যাতন দেখে সহ্য করতে না পেরে হুরমত আলী চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে একজন পাঞ্জাবী সৈন্যের হাত থেকে রাইফেল ছিনিয়ে নিয়ে গুলি করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু গুলি চালানোর কৌশল তাঁর জানা ছিল না। এ সময় অপর একজন পাঞ্জাবী সৈন্য তাকে লক্ষ করে গুলিবর্ষণ করলে তিনি তৎক্ষণাৎ গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে শহীদ হন। শহীদ হুরমতের মৃত্যু ছিল বীরের মৃত্যু।